মেরু ভালুককে সাধারণত বরফের প্রাণী হিসেবে ধরা হয়। তাই মনে করা হতে পারে, বরফের পরিমাণ যত বেশি, তারা তত বেশি আরামে থাকে। কিন্তু বাস্তবে, শীতকালে আর্কটিকের তীব্র ঠাণ্ডা, অন্ধকার ও ঘন বরফ তাদের জন্য শিকারের বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
ওল্ড ডোমিনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী ড. জন হোয়াইটম্যান বলেন, শীতকালে বরফ বেশ শক্ত এবং ফাটল কম থাকে।
এর ফলে রিংযুক্ত সীল, যাদের ভালুকেরা প্রধানত শিকার করে, খুব কম সময় বরফের পৃষ্ঠে থাকে। তাই শিকার করা কঠিন হয়। এছাড়া শীতকালে বাতাস খুব তীব্র থাকে, যা ভালুকের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ।
মেরু ভালুকরা দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তে ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তির উপর বেশি নির্ভর করে।
তবুও, শীতকালে অনেক ভালুক আশ্রয় নেওয়া এবং কম খেয়ে সময় কাটায়—যা আশ্রয়স্থল ডেনিং নামে পরিচিত। কিছু ভালুক বরফের পরিবর্তে তীরে বা অন্যান্য খাবারের উৎসের কাছাকাছি থাকে, যা দীর্ঘ শীতকাল টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
শীতকালে বিশেষত গর্ভবতী স্ত্রী ভালুকদের জীবন কঠিন। তারা তুষারের মধ্যে ডেন তৈরি করে নবজাতক শাবক প্রসব করে এবং কয়েক মাস খাবার না খেয়ে দুধ খাওয়ায়।
হোয়াইটম্যান বলেন, “শীতের আগে একটি সীল খাওয়া বা না খাওয়ার পার্থক্য বাচ্চাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনায় বড় প্রভাব ফেলে।”
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের বরফ আগের চেয়ে দ্রুত গলে যাচ্ছে। ফলে মেরু ভালুকদের শীতকালে চর্বি জমানোর সময় কম থাকে, যা তাদের এবং শাবকদের জীবনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
তবে এই কঠিন সময়ের পর আসে বসন্তকাল, যখন বরফের ফাটল বেশি থাকে এবং সীল সহজে শিকারযোগ্য হয়। তখন মেরু ভালুকরা নতুন শক্তি নিয়ে সক্রিয় হয় এবং বাচ্চাদের যত্ন নিতে পারে।
শীতকাল, যদিও চ্যালেঞ্জিং, তবে মেরু ভালুকদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.