পঞ্চগড়ে বইছে মৃদু শৈতপ্রবাহ তাপমাত্রা নেমেছে এক অংকের ঘরে। হিমালয়ের হিমেল হাওয়া এ জেলার উপর দিয়ে বইছে সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত। শীতের তীব্রতা প্রকোপে জনজীবনে বাড়ছে দূর্ভোগ।
এদিকে টানা পাঁচ দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরেই অবস্থান করার পর আজ শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৬ টায় জেলার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড।
এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগও। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা উপেক্ষা করে নিম্নআয়ের মানুষদের মাঠে-ঘাটে বের হতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রাস্তাঘাট, বাড়ির সামনে কিংবা চা-স্টলের পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে অনেকে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। শীত নিবারন করতে খড়কুটো জালিয়ে আগুনে দগ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল ও জেলা চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন রোগীর সংখ্যারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এছাড়াও জেলা শহরসহ বিভিন্ন হাটবাজারে শীতবস্ত্রের দোকামগুলো জমে উঠেছে। সাথে পিঠাপুলি ও কৃষকরা তাদের জমির শীত কালীন শাকসবজি বাজারে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে৷
জেলা সদর উপজেলার মৌলানি এলাকার কৃষক ওবায়দুর বলেন, শীতকাল আসলে আমাদের কাজের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ক্ষেত থেকে বিভিন্ন শাকসবজি প্রতিদিন ভোর হলেই উত্তোলন করে বাজারে জন্য প্রস্তুত করি।
এদিকে জেলা শহরের রিক্সাচালক জাহাঙ্গীর বলেন, কয়দিন থেকে খুব শীত করতেছে। আমরা গরিব মানুষ কাজ না করলে তো ভাত জোটে না। তাই বাধ্য হয়ে শীতকে উপেক্ষা করে কাজে নেমেছি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, টানা ৫ দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করার পর গতকাল তা আরও কমেছে। আজ সকাল ৬ টায় তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস৷ গতকাল থেকে এ জেলায় মৃদু শৈত্য প্রবাহ চলছে৷
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, শীতের এই দুর্যোগে জেলা প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবেই সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ অর্থে ৮ হাজার ৬৪০টি কম্বল ক্রয় করে জেলার পাঁচটি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৬৫ হাজার কম্বলের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.