বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ১৯৭১ সালে যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, স্বাধীনতার পরপরই সেই স্বপ্ন ব্যাহত হয়। তাঁর অভিযোগ, যে দল নিজেদের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী হিসেবে পরিচয় দেয়, স্বাধীনতার পর তারা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে এবং রক্ষীবাহিনী গঠন করে ভিন্নমত দমনে উদ্যোগী হয়। তিনি বলেন, রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে অনেক রাজনৈতিক কর্মীকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আজও ইতিহাসে রয়ে গেছে।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন,
দেশে পুকুরভরা মাছ ও গোলাভরা ধান থাকার পরও কী কারণে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্ভিক্ষে মানুষ খাদ্যের অভাবে মৃত্যুবরণ করলেও সে সময় রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবারের ব্যক্তিগত আয়োজন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ বছরে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, পল্টন ট্র্যাজেডি, পিলখানা ঘটনার মতো বড় ঘটনার নেপথ্যে গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গেছে এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে গুম, খুন ও রিমান্ডে নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি শাপলা চত্বরের ঘটনাকে নিয়েও সমালোচনা করেন।
বুধবার সকালে দিনাজপুর ইনস্টিটিউট মাঠে দিনাজপুর–৩ উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র–নাগরিক–যুবসমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে এসব বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
সমাবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান, দিনাজপুর–৩ আসনের জামায়াত–সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাইনুল আলমসহ বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতাকর্মীরা।