উজানের ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তর থেকে কালজানি নদী হয়ে দুধকুমার নদীতে ভেসে আসছে হাজার হাজার গাছের গুঁড়ি। আকস্মিকভাবে এসব গাছ ভেসে আসায় নদীতীরবর্তী এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে কৌতূহল ও উদ্বেগ।
রোববার (৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দুধকুমার নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে গাছের গুঁড়ি ভেসে আসতে দেখা যায়। সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর কয়েকটি স্থানে ভেসে আসা কাঠ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয়রা। নৌকা, দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে তারা নদী থেকে গাছ টেনে তীরে তুলছেন।
স্থানীয়দের ধারণা, ভারী বৃষ্টিপাত ও তীব্র স্রোতের কারণে ভারতের পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে এসব গাছ উপড়ে বা কেটে ভেসে এসেছে। দুধকুমার নদীর তীরবর্তী ভুরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙা, শালঝোড়, নাগেশ্বরীর রায়গঞ্জ, চর দামালগ্রাম, নুনখাওয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীর ধারে এখন চলছে কাঠ তোলার উৎসব।
ধলডাঙা গ্রামের লেবু মিয়া বলেন, নদীর পানির ওপর খালি গাছ আর গাছ। মাঝে মাঝে মরা গরুও ভেসে আসছে। মনে হচ্ছে যেন অলৌকিক কিছু ঘটছে।
স্থানীয় নৌকার মাঝি আবু সাইদ বলেন, বিকেল ৩টার দিক থেকে গাছ ভেসে আসতে শুরু করে। যার যা পারছে, টেনে নিচ্ছে। তবে নদীর পানি এখনও তেমন বাড়েনি, বন্যার আশঙ্কা আপাতত নেই।
শিলখুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী বলেন, এখন নদীতে শুধু গাছ আর গাছ। লোকজন নৌকা নিয়ে গাছ ধরে আনছে। এত গাছ কোথা থেকে আসছে বোঝা যাচ্ছে না। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এগুলো ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকেই এসেছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এসব গাছ সম্ভবত ভুটানের জয়গা হয়ে ভারতের হাসিমারা বনাঞ্চল (হাসিমারা ফরেস্ট) থেকে ভেসে এসেছে। সীমান্তবর্তী ভারতীয় বাসিন্দারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, হাসিমারা বনাঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল নামায় প্রবল স্রোতে গাছ উপড়ে নদীতে ভেসে পড়ে। সেই স্রোতে কালজানি নদী হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে গাছগুলো।
উল্লেখ্য, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলা হয়ে কালজানি নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং এরপরই এটি দুধকুমার নামে পরিচিত হয়।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © RCTV. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।