পাকিস্তানি অভিনেত্রী ও টিভি ব্যক্তিত্ব আয়েশা ওমরের নতুন রিয়েলিটি শো ‘লাজাওয়াল ইশক’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার ঝড়। দেশটির প্রথম ‘ভালোবাসা কেন্দ্রিক’ রিয়েলিটি শো হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া এই প্রজেক্টের প্রোমো প্রকাশের পর থেকেই নানা মত ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘লাজাওয়াল ইশক’-এর প্রোমো প্রকাশের পর অনেকেই একে পশ্চিমা রিয়েলিটি শোগুলোর সাথে তুলনা করছেন, বিশেষ করে ‘লাভ আইল্যান্ড’-এর সঙ্গে। কেউ কেউ শো’টিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবিও তুলেছেন।
প্রোমোতে দেখা যায়, লাল গাউনে সাজা আয়েশা ওমর তুরস্কের ভাসফোরাসের পাশে একটি বিলাসবহুল ভিলা থেকে দর্শকদের স্বাগত জানাচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীরা মূলত নতুন ও অচেনা মুখ। এই মুহূর্তটি নিয়েই অনলাইনে শুরু হয় বিতর্ক।
একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “এই শো কিউপিডকে ব্যবহার করে অর্থ কামানোর একটা কৌশল।” আরেকজন লিখেছেন, “একটা ভুল করা এক কথা, কিন্তু সেটা প্রকাশ্যে দেখানো আরেক জিনিস। কিছু তো লজ্জা থাকা উচিত।”
অনেক ব্যবহারকারী পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি (PEMRA)-র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা এই শো নিষিদ্ধ করে। তাদের মতে, এই ধরনের অনুষ্ঠান দেশের সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
সব প্রতিক্রিয়া অবশ্য নেতিবাচক নয়। অনেকেই বলছেন, একই সমালোচকরা আবার বিদেশি ডেটিং শো গোগ্রাসে দেখেন, অথচ দেশীয় উদ্যোগ এলেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
আয়েশা ওমর এ নিয়ে গালফ নিউজকে বলেন, “এই সমালোচনাগুলো খুবই অপ্রয়োজনীয়। শো সম্প্রচার না হওয়া পর্যন্ত কারও উচিত না চূড়ান্ত মতামত দেয়া।”
তিনি আরও যোগ করেন, “‘লাজাওয়াল ইশক’ শুধুই ডেটিং শো নয়। এটি আমাদের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। এই শো-র মূল উদ্দেশ্য হলো এমন এক যাত্রা, যেখানে চিরস্থায়ী ভালোবাসা পবিত্র বিবাহের মাধ্যমে পরিণতি পায়।”
আয়েশা আরও জানান, এই শোটি তুরস্কের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘আশ্ক আদাসি’-এর অফিসিয়াল অ্যাডাপ্টেশন। এটি তুর্কি প্রোডাকশন কোম্পানির সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুটিং শুরু হয়েছে ইস্তানবুলে প্রায় ১০ দিন আগে এবং এটি চলবে আরও এক মাস। যদিও তিনি সরাসরি কাস্টিংয়ে যুক্ত নন, তবে নিশ্চিত করেছেন—শো’তে পাকিস্তানি নারী ও পুরুষ উভয়ই অংশগ্রহণ করছেন।
‘লাজাওয়াল ইশক’ নিয়ে বিতর্ক যতই থাকুক না কেন, শোটির সম্প্রচারের পরেই স্পষ্ট হবে এটি আদতে কতটা গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারে। তার আগে পর্যন্ত, আলোচনা থামছে না—সমর্থন ও সমালোচনার দুই স্রোতেই ভাসছে আয়েশা ওমরের এই নতুন উদ্যোগ।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
কপিরাইট © RCTV. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।